নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জুলাই গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণার পরপরই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ছাত্রজনতা।
আজ সোমবার দুপুরেই এ দৃশ্যের দেখা মেলে। উপস্থিত ছাত্রজনতা জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পরপর কিছু ছাত্র সিজদায় লুটিয়ে পড়লে দেখাদেখি অন্যরাও সিজদায় বসে পড়েন। এ সময় তাঁরা শহীদদের জন্য জান্নাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতার জন্য দোয়া-মোনাজাত করেন।
ট্রাইব্যুনালের রায় ও অভিযোগ
- রায় ঘোষণা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ সোমবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
- প্রমাণিত অভিযোগ: রায়ে আদালত বলেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
- অন্য আসামিরা: এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (মৃত্যুদণ্ড) ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (রাজসাক্ষী)।
- পলাতক: তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক এবং দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।
রায় পড়া ও দালিলিক প্রমাণ
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের বিবরণ দেওয়া হয়। বিচারকাজ চলার সময় অডিও, ভিডিওসহ যেসব তথ্যউপাত্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর বর্ণনা দেওয়া হয়।
- হত্যার বিবরণ: ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যেভাবে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়েছে, সেগুলোর ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণের বিবরণ দেওয়া হয়।
- ফোনালাপ: গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন জনের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথনগুলো শোনানো হয়। আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে সে সময়ের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপ শোনানো হয়।
- আন্তর্জাতিক রিপোর্ট: আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টের বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনানো হয়।
