স্বাগতম : তারেক রহমানবরণ করতে প্রস্তুত ময়মনসিংহ
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ
ব্রহ্মপুত্রের মৃদু বাতাস আর শীতের আমেজ ছাপিয়ে ময়মনসিংহের রাজনীতিতে এখন শুধুই উত্তাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ-পরবর্তী সময়ে এটিই তাঁর প্রথম ময়মনসিংহ সফর। এই সফরকে ঘিরে কেবল ময়মনসিংহ শহর নয়, আশপাশের জেলাগুলোতেও বইছে উৎসবের আমেজ।
প্রস্তুতির নগরী ময়মনসিংহ
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ময়মনসিংহ শহরকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। ভালুকা থেকে শুরু করে শহরের প্রবেশদ্বার চুরখাই, চায়না মোড় এবং সার্কিট হাউস পর্যন্ত তোরণ, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। দলীয় প্রতীক ধানের শীষ এবং জিয়া পরিবারের ছবি সম্বলিত বিশাল সব বিলবোর্ড জানান দিচ্ছে দলের সাংগঠনিক শক্তির কথা। সার্কিট হাউস ময়দানে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। দলীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আবেগ ও রাজনীতির মেলবন্ধন
ময়মনসিংহের মাটির সাথে বিএনপির সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘জেড ফোর্স’ এই অঞ্চল থেকেই মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছিল। আজ তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান যখন ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ ৩১ দফা রূপরেখা নিয়ে এই মাটিতে পা রাখছেন, তখন কর্মীদের আবেগ বাঁধনহারা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, “এটি কেবল একটি নির্বাচনী জনসভা নয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার শপথ নেওয়ার দিন আজ।”
জনসমুদ্রের প্রত্যাশা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা থেকেও লক্ষাধিক নেতাকর্মী এই সমাবেশে যোগ দেবেন। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে স্বেচ্ছাসেবক দল বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হাতে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল—তারেক রহমান তাঁর ভাষণে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে কী বার্তা দেন, তা শোনার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই সফর ময়মনসিংহের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা এবং উপস্থিত জনস্রোত প্রমাণ করবে যে, ময়মনসিংহ বরাবরই জাতীয়তাবাদী শক্তির দুর্ভেদ্য ঘাঁটি।
এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। মঞ্চ প্রস্তুত, জনতাও প্রস্তুত—ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে আজ রচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন ইতিহাস।
