সিবিএমসিবি কমেডি শো – ৩য় পর্ব
জেনে নিন সফদার ডাক্তাররা আজকে কোথায় আছেন!
শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

ময়মনসিংহের ‘কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ (সিবিএমসিএইচ)-এর অন্দরমহলে অনুসন্ধানে গিয়ে যা দেখলাম, তাকে এক কথায় ‘নকল বিজ্ঞানের মহোৎসব’ বলা চলে। এই প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকের জ্ঞানস্বল্পতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা যখন কথা বলেন, তখন মনে হয় তারা বোধহয় ছাত্রজীবনে লাইব্রেরির বদলে কোনো কমেডি ক্লাবে সময় কাটাতেন। তাদের মনগড়া আইন আর অদ্ভুত সব যুক্তি শুনলে যেকোনো শিক্ষিত লোকের হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরবেই!
হিপোক্রেটিস নাকি সফদার ডাক্তার?
তদন্তের স্বার্থে যখন আমরা এই বিজ্ঞ শিক্ষকদের মুখোমুখি হলাম, তখন তাদের আচরণ দেখে একটি কৌতুক মাথায় এল— এদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক কে?’, আমি নিশ্চিত ‘হিপোক্রেটিস’ নামটি তাদের মস্তিষ্কের ত্রিসীমানায় আসবে না। হয়তো তারা ভাববেন এটি কোনো বিদেশি সিরাপের নাম! বরং তাদের আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হয়, তারা সুকুমার রায়ের ‘সফদার ডাক্তার’কেই নিজেদের আদর্শ মেনে নিয়েছেন। যে ডাক্তার ‘খাঁচাশুদ্ধু পাখি’র চিকিৎসা করতেন, সিবিএমসিএইচ-এর এই প্যানেল যেন তার চেয়েও কয়েক কাঠি সরস।
মনগড়া আইন আর ‘ইনস্ট্যান্ট’ ডিক্লারেশন
প্রিন্সিপাল মাহফুজ আর ডিরেক্টর করিম খান যখন আরটিআই (RTI) বা তথ্য অধিকার আইনের মুখোমুখি হন, তখন তারা আইন মানার চেয়ে আইন তৈরিতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তৎক্ষণাৎ তারা ঘোষণা করে দিলেন এক নতুন ‘সিবিএমসিএইচ আইন’— “রোগী এলেও তথ্য দেওয়া যাবে না, আদালত থেকে লিখে আনতে হবে!” তারা সম্ভবত ভুলেই গেছেন যে সবাই তাদের মতো ‘নকল বিজ্ঞানে’ পারদর্শী নয়। যারা নকল করে পাস করে বিশেষজ্ঞ সাজেন, তাদের পক্ষেই সম্ভব তথ্যের অধিকারকে এমন বুড়ো আঙুল দেখানো।
চেয়ারম্যানের পাকা চুলের রহস্য
গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. আব্দুল মান্নান তো সরাসরি দম্ভের এক নতুন উচ্চতা দেখালেন। সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বললেন, “আমার কিন্তু এমনিতেই চুল পাকে নাই!” তার পাকা চুলের দোহাই আর “স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আমি বলে দেব নে” টাইপ হুমকি শুনে মনে হলো, তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেয়ে রাজনৈতিক তদবিরেই বেশি বিজ্ঞ। ডিক্লেয়ার করার সময় তিনি একবারও ভাবেননি যে, তার এই ‘চুল পাকা’ জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে কতটা হাস্যকর ঠেকছে।
সিবিএমসিএইচ-এর এই সবজান্তা পরিপক্ক আপাদমস্তক শ্বেতশুভ্র প্যানেল আসলে একেকটি চলন্ত কমেডি শো। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, এই হাস্যকর শিক্ষকদের হাতেই মানুষের জীবন আজ জিম্মি। ৩৮ সেন্টিমিটার সুস্থ কোলন কেটে ফেলে তারা এখন ‘আমরা আমরাই তো’ বলে যে সার্কাস দেখাচ্ছেন, তার সমাপ্তি কিন্তু আর হাসির থাকবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন নিজে এই ‘নকল বিজ্ঞানের’ প্রমাণ চেয়েছেন, তখন আর পাকা চুলের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না।
—চোখ রাখুন আগামী পর্বে—
