সাংবাদিক নির্যাতন:অবশেষে বরখাস্ত কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা

Oplus_131072

ছবি:ডিসি সুলতানা

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক জাহান
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫


বহুল আলোচিত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে নির্যাতনের মামলায় কারাগারে যাওয়ার নয় দিনের মাথায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয় এবং তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশটি ২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮” এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সুলতানা পারভীনকে ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী কেবল খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এদিকে, বরখাস্তের আদেশ জারির দিনই (মঙ্গলবার) সাংবাদিক নির্যাতনের এই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জামিনের কাগজপত্র কারাগারে না পৌঁছানোয় তিনি মুক্তি পাননি।
এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের একটি পুকুর নিজের নামে “সুলতানা সরোবর” নামকরণ করেন তৎকালীন ডিসি সুলতানা পারভীন। এই বিষয়টিসহ প্রশাসনের অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান।
এর জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে আরিফুলের বাড়িতে হানা দেয় জেলা প্রশাসনের একটি দল। অভিযোগ রয়েছে, তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দেওয়া হয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এই নির্যাতনে তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
নির্যাতনের পর, আরিফুলের বাড়িতে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে—এমন বানোয়াট অভিযোগ এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মধ্যরাতেই কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনা সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আরিফুল কারামুক্ত হন। এরপর তিনি বাদী হয়ে সুলতানা পারভীনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান এই মামলার জের ধরেই অবশেষে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেন আলোচিত এই সাবেক জেলা প্রশাসক।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *