মেশিন ও ডিজেল সংকটসহ অকাল বন্যার শঙ্কা: কৃষকরা দিশেহারা
মো: হাবিবুল্লাহ, (খালিয়াজুড়ি) , নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়ীতে বোরো ধান কাটার মওসুম শুরু হতেই কৃষকরা ত্রিমুখী সংকটের মুখে পড়েছেন। একদিকে হার্ভেস্টার মেশিনের তীব্র সংকট, অন্যদিকে ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে সোনালী ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর সাথে যোগ হয়েছে চৈত্র মাসের অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা।
বিপুল লক্ষ্যমাত্রা ও যান্ত্রিক সংকট
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ধান কাটার জন্য অন্তত ২০০টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৮৬টি। মেশিনের এই বিশাল ঘাটতি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “ধান কাটার মৌসুমে কৃষকরা যাতে সংকটে না পড়েন, সে জন্য ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
অকাল বন্যার আতঙ্ক
বিএনপি সভাপতি ও গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন জানান, চৈত্র মাসের শুরু থেকেই প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ধনু নদের তীরবর্তী কিছু জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, যা হাওরের কৃষকদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাঠপর্যায়ের হাহাকার
খালিয়াজুড়ী সদরের কৃষক নজরুল ইসলাম ও কৃষক দলের সেক্রেটারি পান্ডব সরকার জানান, ধান কাটার সময় হয়ে এলেও মেশিনের দেখা নেই। তার ওপর ডিজেলের চড়া দাম ও সংকট চাষিদের পথে বসার উপক্রম করেছে। স্থানীয় প্রেসক্লাব সদস্য সচিব সোহান বিন নবাব জানান, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাজারে তেলের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয় সংকট মেটাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকে অতিরিক্ত হার্ভেস্টার মেশিন আনার চেষ্টা চলছে। একই সাথে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে।
