মিম, সিঁথি, পূজা: পূজায় কে কোথায়
বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা।

পূজায় তারকারা কে কোথায়। কোলাজ।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শোবিজের তারকারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ গ্রামে পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে, আবার কেউ ঢাকা ও শ্বশুরবাড়িতে প্রিয়জনদের নিয়ে উৎসবের সময় কাটাচ্ছেন।

বিদ্যা সিনহা মিম। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে।
মিমের পূজা তিন জায়গায়
অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম-এর মন পূজা এলেই রাজশাহীতে গ্রামের বাড়ি ছুটে যায়। তবে আপাতত তিনি ঢাকাতেই বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরছেন। মিম জানান, “দৌড়ের ওপর আছি।” তাঁর মা-বাবা রাজশাহী চলে গেলেও, কাল (বুধবার) মিম পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজশাহী যাবেন। এরপর তাঁর গন্তব্য হবে শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়। মিম বলেন, বছরজুড়ে তিনি এই সময়ের জন্যই অপেক্ষা করেন এবং পূজার ছোটাছুটি শেষে দেশের বাইরেও যাবেন।

সিঁথি সাহা। শিল্পীর ফেইসবুক থেকে।
সিরাজগঞ্জে সিঁথি
গায়িকা সিঁথি সাহা-র গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায়। তাঁদের বাড়িতেই প্রায় দেড় শ বছর ধরে পূজা হয়। এ সময় তিনি গ্রামে যেতেই হবে বলে জানান। সিঁথি বলেন, “এটা আলাদা একটা আনন্দ। আমাদের বাড়িতেই সবাই আসে পূজা দিতে। সবার সঙ্গে দেখা হয়। নাচ–গানে দারুণ সময় কাটে।” তিনি জানান, আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তাঁর গানের শো রয়েছে। ঢাকায় এসে গান গেয়ে তিনি আবার গ্রামে ফিরে যাবেন।

পূজা সেনগুপ্ত।
পূজার আনন্দের অপেক্ষা
নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত ঢাকাতেই প্রিয়জনদের সঙ্গে পূজার সময় কাটান। এবার ঢাকার বড় মন্দিরগুলো ঘুরে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি জানান, এ সময় পরিবার, আত্মীয়স্বজনকে একসঙ্গে পাওয়া যায়। এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে পছন্দের খাবার ও পছন্দের রঙের শাড়ি নিয়েও তাঁর আলাদা প্রস্তুতি থাকে।
পূজা বলেন, ‘এটা আমাদের বড় উৎসব। বছরজুড়ে অপেক্ষা। এ অপেক্ষাই বেশি আনন্দের। সেই আগের মতো ঘোরাঘুরি করা হয়। সময়টা উপভোগ করতে এখন হাতে কাজও রাখিনি। কিছু টক শো রয়েছে। নাচ থেকে কয়েকটা দিন দূরে থাকব। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে অবসর নিয়ে আসে পূজা।’

মন্দিরা চক্রবর্তী।
খুলনাকে মিস করছেন মন্দিরা
শৈশব থেকে সব সময়ই খুলনায় নিজের এলাকায় পূজা করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। তাঁদের বাপ-দাদাদের আয়োজনেই পূজা হয়। বন্ধু, ছোট ভাইবোনদের নিয়ে দারুণ একটি সময় কাটাতেন। খুলনার সেই সময়কে মিস করছেন মন্দিরা। তিনি জানান, ব্যস্ততার কারণে এবারই প্রথম ঢাকাতে পূজা করতে হচ্ছে। ঘুরছেন বিভিন্ন মণ্ডপে। তিনি বলেন, ‘আগে ঢাকা থেকে অনেকে খুলনায় ছুটে যেত। এবার পরিবারের সবাই ঢাকাতে। খাওয়াদাওয়া, আনন্দে দারুণ সময় কাটছে। ফটোশুটের কাজও করতে হচ্ছে। সময় বের করে ঘুরতেও যাচ্ছি, কিন্তু খুলনাকে ভীষণ মিস করছি।’ জানান, নানা সাজে ঘুরতে হবে, এ জন্য তিন–চার মাস আগেই সব পোশাক কিনে রেখেছেন।
মনোজের অন্য রকম পূজা
বুসান এশিয়ান ফিল্ম স্কুলের বৃত্তি নিয়ে এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। ‘কোর্স শেষ হতে আরও এক মাস লাগবে। পূজাতে তাই দেশে থাকতে পারছি না। আমার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, ভক্ত-অনুসারী সবাইকে খুব মিস করছি,’ গতকাল বলছিলেন অভিনেতা। মণ্ডপে যেতে পারছেন না, গ্রামের বাড়িতে যেতে পারছেন না; সব মিলিয়ে একটু অন্য রকম পূজা কাটছে।

মনোজ প্রামাণিক।
সিউলে কিছু মন্দির আছে শুনেছি, বুসানে আছে কি না, জানি না। যদি খোঁজ পাই, তাহলে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এখানে অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। এ ছাড়া অনেক বাংলাদেশি পড়াশোনা বা কাজের সূত্রে এখানে আছেন, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাব; আপাতত পূজা নিয়ে এটাই পরিকল্পনা,’ বলছিলেন মনোজ। নিজে থাকতে না পারলেও যাঁরা দেশে আছেন, সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান অভিনেতা।
নেহার মন খারাপ
দুর্গাপূজায় প্রতিবার এ মণ্ডপ থেকে ও মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান নিদ্রা দে নেহা। তবে এবার পরিস্থিতি একটু আলাদা। বাবা অসুস্থ, ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে, তাই মন ভালো নেই।

নিদ্রা দে নেহা। অভিনেত্রীর ইন্সট্রাগ্রাম থেকে।
এবার একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। পূজা এসেছে ভালো লাগছে, তবে বাবার কথা মনে হতেই আবার খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছে, এটাই হয়তো বাবার সঙ্গে শেষ পূজা। ষষ্ঠীর দিন পুরান ঢাকার মণ্ডপগুলোতে ঘুরে এসেছি, আজ (গতকাল) সকালে একবার মণ্ডপে গিয়েছিলাম; এখন আবার হাসপাতালে ছুটতে হবে। সপ্তমীর দিন বাসাতেই ছিলাম,’ বলেন নেহা।
