মার্কিন হামলা উপেক্ষা করে ২০৮ ইরানি নাবিকের প্রাণ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা
জাহিদ হাসান রনক

আন্তর্জাতিক জলসীমায় গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম নাটকীয় ও রক্তক্ষয়ী এক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। মার্কিন টরপেডোর আঘাতে ইরানের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ সাগরে তলিয়ে গেলেও, শ্রীলঙ্কার সাহসী হস্তক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে ফিরে এসেছেন অপর জাহাজ ‘বুশেহের’-এর ২০৮ জন নাবিক।
মহড়া শেষে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে, যখন ইরানের এই দুটি যুদ্ধজাহাজ ভারতের আতিথেয়তায় একটি দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। দুই সপ্তাহের সফল মহড়া শেষে ‘ডেনা’ ও ‘বুশেহের’ যখন দেশের পথে রওনা হয়, তখনই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন টরপেডোর অতর্কিত হামলায় মাঝসমুদ্রে সলিলসমাধি ঘটে ‘ডেনা’র। এই মর্মান্তিক হামলায় জাহাজটিতে থাকা ৮৭ জন ইরানি নাবিক প্রাণ হারান।
ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলো শ্রীলঙ্কা
ডেনা ডুবে যাওয়ার পর ভয়াবহ বিপদে পড়েন ‘বুশেহের’ জাহাজের ২০৮ জন নাবিক। একদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের রক্তচক্ষু, অন্যদিকে মাঝসমুদ্রে অসহায় আত্মসমর্পণ—এমন সংকটময় মুহূর্তে সব সমীকরণ পাল্টে দেয় শ্রীলঙ্কা। কোনো পরাশক্তির হুমকিকে তোয়াক্কা না করে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন দ্রুত তাদের উদ্ধারকারী দল পাঠায়। এই মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই ২০৮ জন ইরানি নাবিক আজ নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন।
সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কার এই উদ্ধার অভিযান কেবল একটি মানবিক কাজ নয়; বরং এটি পরাশক্তিগুলোর দাদাগিরির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। উত্তাল সমুদ্রে রক্তক্ষয়ী এই অধ্যায়ে শ্রীলঙ্কার ‘ত্রাতা’ হিসেবে আবির্ভাব হওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
