মার্কিন নিখুঁত হামলার ভিডিও প্রকাশ; ইরানের দাবি এটি ছিল ‘ডিকয়’ বা ধোঁকাবাজি!

জাহিদ হাসান রনক

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন এক মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) তাদের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে (Precision Strike) ইরানের বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এর কিছু সময় পরই ইরান একে তাদের পাল্টা বুদ্ধিমত্তার জয় হিসেবে দাবি করছে।

মার্কিন সেন্টকমের ভিডিও প্রকাশ

সেন্টকমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী মিসাইল বা বোমার আঘাতে একটি বিমান ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও সেখানে থাকা যুদ্ধবিমানগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা এই ভিডিও প্রকাশ করে তাদের আকাশপথের শক্তি ও নিখুঁত হামলার সক্ষমতা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চেয়েছিল।

ইরানের ‘ডিকয়’ কৌশল ও পাল্টা দাবি

হামলার পরপরই ইরান এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আমেরিকার যে স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে সেটি আসলে ছিল একটি ‘ডিকয়’ বা কৃত্রিম স্থাপনা। ইরান জানায়, তারা মূলত আমেরিকান ও ইসরায়েলি বিমান হামলাকে বিভ্রান্ত করতেই শত শত ভুয়া যুদ্ধবিমান ও হ্যাঙ্গার তৈরি করে রেখেছে। শত্রুরা যখন এসব ভুয়া লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে নিজেদের মিসাইল খরচ করছে, তখন ইরানের আসল যুদ্ধবিমানগুলো মাটির নিচে (Underground Base) সুরক্ষিত বাঙ্কারে রয়েছে।

শত শত ঘাঁটিতে একই কৌশল

ইরান দাবি করছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের এরকম শত শত বিমান ঘাঁটি রয়েছে যেখানে একই ‘ডিকয়’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি কৌশলগত ‘চেকম্যাট’ বা কিস্তিমাত, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের সক্ষমতা নষ্ট করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ছদ্মবেশী যুদ্ধকৌশল আধুনিক সমরাস্ত্রের যুগেও বড় শক্তিগুলোকে বড় ধরণের বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *