মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে শীর্ষে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়
ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গঠনের নির্ভরযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসছে।
গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বর্তমান চালচিত্র
প্রতিষ্ঠাকালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত নূর জামাল (১৯৯৪-২০০০)। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ফারুক রেজওয়ানুল ইসলাম। ১.১৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকবৃন্দ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ভালো ফলাফলের পাশাপাশি একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

ঈর্ষণীয় সাফল্য ও স্বীকৃতি
প্রধান শিক্ষক ফারুক রেজওয়ানুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি যোগদানের পর থেকে তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ স্কাউট দল ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে উপজেলা পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে ময়মনসিংহ জেলায় ‘শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

সহ-পাঠ্যক্রম ও স্কাউটিংয়ে অবদান
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতেও বিদ্যালয়টি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে অংশগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নজরুল জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৭২২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
আগামীর লক্ষ্য ও প্রত্যাশা
প্রধান শিক্ষক ফারুক রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, “আমি এই বিদ্যালয়টিকে শুধু জেলা নয়, বরং দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।” শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
