ময়মনসিংহে ১৮টি পূজা মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: দিন-রাত মাঠে ১নং ফাঁড়ি ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন

​স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ নগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ১৮টি পূজা মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত এক করে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও তাঁর চৌকস টিম। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছে; বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ ও সংবেদনশীল এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে বিজিবি।

​রবিবার সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ফাঁড়ি এলাকার প্রতিটি মণ্ডপে সশরীরে গিয়ে নিবিড় তদারকি চালান ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

​নিরাপত্তা তদারকি ও সরাসরি সমন্বয়

​পরিদর্শনকালে ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মণ্ডপের নিরাপত্তা কাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য, টহলরত বিজিবি দল এবং পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় ও মতবিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

​ফাঁড়ি ইনচার্জের বক্তব্য

​সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ফাঁড়ির আওতাধীন ১৮টি মণ্ডপের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রশাসনের পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার অবকাশ তৈরি হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন কোনো প্রকার শঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখছে এবং বিসর্জন পর্যন্ত এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

​পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা

​সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “উৎসবের আনন্দ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে; টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন গুজব ছড়িয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে সম্পূর্ণ শঙ্কা ও ভয়মুক্ত পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থেকে তা নিশ্চিত করা হবে।”