ময়মনসিংহে ঈশ্বরগঞ্জে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখলচ্যুতির অভিযোগ; এসপি ও ডিসির কাছে ভুক্তভোগীর আবেদন

​মো. মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জোরপূর্বক দখলচ্যুতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বসতভিটার দখল পুনরুদ্ধারে পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী মো. এমদাদুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।

​শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ভুক্তভোগী পরিবার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিকার দাবি করেন।

​অভিযোগের বিবরণ

​লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিজপুবাইল এলাকার বাসিন্দা মো. এমদাদুল ইসলাম কমল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দত্তপাড়া মৌজার এসএ ১৩০১ ও বিআরএস ৪০৮৬ দাগের ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ আবাসিক জমিতে স্থায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বৈধভাবে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন।

​গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মাজারের মুতাওয়াল্লি গিয়াস উদ্দিন, মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ আহমেদ আলী ও মো. মাহফুজুর রহমানসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও এক্সকাভেটর (বেকু) নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।

​এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বসতবাড়ি ভাঙচুর করেন এবং ঘরের ইট ও বালুসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাদের বৈধ ভোগদখলীয় সম্পত্তি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। আকস্মিক এই হামলায় ভুক্তভোগী পরিবার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অমানবিক দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা, হালনাগাদ নামজারি ও পৌর ট্যাক্স পরিশোধ থাকার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের বক্তব্য

​প্রবাসী ভুক্তভোগীর স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সব কাগজপত্র থাকার পরও আমাদের জোরপূর্বক জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। খেয়ে-না খেয়ে জমানো টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছিলাম, কিন্তু আজ তাদের অন্যায়ের কারণে আমরা আজ প্রায় সর্বস্বান্ত। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।”

​এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন ও আহমদ আলীকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন কেটে দেওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় এই জবরদখল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

​ঘটনার বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বসতভিটার দখল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।