​পর্দায় আসছে ‘হাউস অব গিনেস’: উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব ও বিয়ার সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন

পৃথা পারমিতা নাগ, ঢাকা। প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:০০

হাউস অব গিনেস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

​নেটফ্লিক্সে গিনেস পরিবারের রোমাঞ্চকর কাহিনি

​বিখ্যাত গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস যার নামের সঙ্গে জড়িত, সেই আর্থার গিনেসের পরিবারকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘হাউস অব গিনেস’। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বসবাসকারী এই বিখ্যাত পরিবারের প্রজন্ম ধরে চলে আসা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সাফল্য ও সংগ্রাম নিয়েই আট পর্বের এই সিরিজটি মুক্তি পেয়েছে গতকাল রাতে।

​সিরিজটি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা স্টিভেন নাইট, যিনি ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ ও ‘এসএএস রৌগ হিরোস’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত।

​একটি পরিবার নয়, আয়ারল্যান্ডের প্রতিচ্ছবি

​‘হাউস অব গিনেস’ কেবল একটি পরিবার বা একটি বিয়ার ব্র্যান্ডের গল্প নয়। এটি আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস, সমাজ ও রাজনীতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে নির্মিত হয়েছে। এই সিরিজে দেখানো হয়েছে— বেঞ্জামিন গিনেসের মৃত্যুর পর পিতার উইল কীভাবে তাঁর সন্তানদের জীবনকে প্রভাবিত করেছিল এবং সেই সময়ের রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছিল।

​সিরিজটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যান্থনি বয়েল, লুয়ি পারট্রেজ, এমিলি ফেয়ার্ন, ফিয়ন ও’শে ও জেমস নর্টন

​সিরিজের পটভূমি ও সত্যতার নিরিখ

​গিনেস পরিবারের শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় আর্থার গিনেসের (জন্ম ১৭২৫) হাতে, যিনি বিখ্যাত গাঢ় স্টাউট বিয়ার তৈরি করেছিলেন। আজও বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ১ কোটির বেশি গ্লাস বিক্রি হয় এই পানীয়র।

​পটভূমি

​সিরিজের গল্প শুরু হয়েছে ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠাতার নাতি বেঞ্জামিন গিনেসের মৃত্যুর পর থেকে। চার সন্তানকে রেখে তিনি মারা যান এবং তখনই শুরু হয় বিশাল সম্পত্তি ও দায়িত্ব নিয়ে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব। যদিও প্রথমে নির্মাতা লোওয়েল চেয়েছিলেন বিয়ার রেসিপি তৈরি হওয়ার সময় থেকে গল্প শুরু হোক, তবে স্টিভেন নাইট বেঞ্জামিন গিনেসের মৃত্যুর পরের সময়কে বেছে নেন।

হাউস অব গিনেস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

শুধু তারা নয়, যেসব পার্শ্বচরিত্র এই সিরিজে দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে ছিলেন। তবে সিরিজটিতে কিছু নাটকীয় সংযোজনও আছে। সে কথা স্টিভেন নাইট নিজেই স্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধান ঘটনাগুলো বাস্তব, কিন্তু চরিত্রগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্তের সূক্ষ্ম দিকগুলো তৈরি করতে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে।’ সিরিজটিতে উনিশ শতকের ডাবলিন ও নিউইয়র্ক শহরকে দেখানো হয়েছে।

হাউস অব গিনেস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

তিনি আর তাঁর আত্মীয়রা অন্যমনস্কভাবে টিভিতে ‘ডাউনটন অ্যাবি’ দেখছিলেন। দেখতে দেখতে ইভানার মনে হলো, ‘আমাদের পারিবারিক ইতিহাস তো এর চেয়েও অনেক বেশি রসালো আর সবকিছুই সত্যি।’ নিউইয়র্কে ফেরার পর তিনি লিখে ফেললেন ২০ পৃষ্ঠার টিভির উপযোগী চিত্রনাট্য। যেখানে গিনেস বংশের উত্থান-পতনের কাহিনি, যেখানে আছে ব্যবসায়িক সাফল্য, দাতব্য কাজ, রাজনৈতিক যোগসাজশ আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—অসংখ্য পারিবারিক কলহ, কেলেঙ্কারি ও গোপন রহস্য।


হাউস অব গিনেস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

নাইট বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইভানা আসলে তথ্য আর অজানা গল্পের এক ভান্ডার। তাঁর সঙ্গে দেখা করাই ছিল গবেষণার সেরা অভিজ্ঞতা। কারণ, শুধু গল্পই শোনাননি, তাঁর কণ্ঠে ছিল গিনেস পরিবারের আত্মবিশ্বাস, চেতনা আর উন্মাদনাও…আমি তাতে মুগ্ধ হয়ে যাই।’

হাউস অব গিনেস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত মতামত, গোপন বৈঠক কিংবা দরজা বন্ধ করে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো কাল্পনিক। সিরিজে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র যুক্ত করা হয়েছে। যেমন জেমস নর্টনের শ’ন রাফার্টি, এটি পুরোপুরি কল্পিত চরিত্র। লোওয়েল বিবিসিকে বলেন, ‘এই রাফার্টি চরিত্রটি যুক্ত করার মাধ্যমে গল্পে সংঘাত আর আবেগের মিশ্রণ তৈরি হয়েছে, যা একটি কাহিনিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।’

‘হাউস অব গিনেস’ কেবল একটি পরিবার বা একটি ব্র্যান্ডের গল্প নয়, বরং আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস, সমাজ ও রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। বাস্তব ইতিহাসের সঙ্গে কল্পনার মিশেলে নির্মিত এই সিরিজ গিনেস সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে

হাউস অব গিনেস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ

​নির্মাতা স্টিভেন নাইট বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ‘হাউস অব গিনেস’-এর গল্পে বাস্তব আর কল্পনার মিশ্রণ রয়েছে।

  • বাস্তব ঘটনা: সিরিজের মূল চরিত্র অর্থাৎ চার ভাইবোন— আর্থার, এডওয়ার্ড, অ্যান ও বেনজামিন—বাস্তবেও ছিলেন। বড় ছেলে আর্থার আশা করেছিলেন পুরো কারখানা পাবেন, কিন্তু বাবার উইল অনুযায়ী তাঁকে ছোট ভাই এডওয়ার্ডের সঙ্গে তা ভাগাভাগি করতে হয়।
  • রাজনৈতিক বাস্তবতা: আইরিশ বিপ্লবী গোষ্ঠী ফেনিয়ানরা যে গিনেস ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, সেই রাজনৈতিক বাস্তবতাও সিরিজে উঠে এসেছে।
  • কাল্পনিক সংযোজন: নাইট জানান, প্রধান ঘটনাগুলো বাস্তব, কিন্তু চরিত্রগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্তের সূক্ষ্ম দিকগুলো তৈরি করতে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে। সিরিজটিতে উনিশ শতকের ডাবলিন ও নিউইয়র্ক শহরকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *