জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এখনো মতৈক্য নেই, বাড়ছে কমিশনের মেয়াদ

  • ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়ছে।
  • বুধবার আবার আলোচনা হতে পারে।
  • ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত।
  • সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩ দলের ৩ মত।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলছে।ফাইল ছবি:

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭: ৪৯

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিক আলোচনাতেও কোনো ফল আসেনি। গতকাল রোববার কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীজাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের আগের অবস্থানই তুলে ধরেছে।

সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩ দলের ৩ মত

​সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে তিন দলের মধ্যে ভিন্ন মত দেখা গেছে। বিএনপি চায়, সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হোক। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে বা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার চায়। পাশাপাশি, এনসিপি মনে করে, সংস্কার টেকসই করতে হলে দরকার গণপরিষদ নির্বাচন।

নির্বাচন ও কমিশনের মেয়াদ

​গতকালের আলোচনায় নির্বাচনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়। তবে, জামায়াত বলছে যে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে সেটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। এই মতভিন্নতার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা বারবার বলেছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে। সেটি হবে মহোৎসবের নির্বাচন, যদি আমরা ঐকমত্যের মাধ্যমে ফয়সালা করতে পারি। এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এটি হবে জাতির নবজন্ম।”

​এদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আজ সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, গতকালের আলোচনায় একাধিক দল প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আরেক দফায় বাড়ানো হচ্ছে এবং সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আগামী বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের আবার আলোচনা হতে পারে।

বিএনপির যুক্তি

​বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদ ছাড়া অন্য কোনো ফোরাম বাস্তবায়ন করতে পারে কি না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়া যেতে পারে। কারণ, যদি কোনো আইনি পরামর্শ থাকে, তাহলে তার উপযুক্ত জায়গা হলো সুপ্রিম কোর্ট। তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে সই করতে বিএনপি প্রস্তুত। আমরা চাই, একটা বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়া বের করা হোক।”

জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান

জামায়াতে ইসলামীএনসিপি উভয় দলই আগামী নির্বাচনের আগে সনদ বাস্তবায়ন চায়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সনদ বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প উপায় তুলে ধরেন: ‘প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার’ বা গণভোট। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হবে। অন্যদিকে, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গণপরিষদ নির্বাচন করে সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো টেকসই বাস্তবায়নের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে সংবিধান সংশোধনীগুলো আদালতে বাতিল হতে পারে, যেমনটি অতীতে হয়েছে।

চূড়ান্ত পরিণতির আশা ও অগ্রগতি

​আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, ছয়টি সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৭০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য আছে। তিনি আরও বলেন, সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের বিষয়ে অবিচল আছে। এ ছাড়া, এই আলোচনার প্রক্রিয়াকে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন এবং একটি চূড়ান্ত পরিণতির আশা প্রকাশ করেছেন।

​বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের লিঙ্ক হলো:

https://supremecourt.gov.bd/

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *