চাকরি পেতে ৪০% কমিশনের চুক্তিপত্র ফাঁস!
“৩১ ও ৩২ নং ওয়ার্ডে কোন ধরনের
চাঁদাবাজি চলবে না।”
কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন যুবদল নেতা মুরাদ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শম্ভুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টে বর্তমানে কাজ করা ৯টি কোম্পানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে ‘কমিশন’ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । এই দূর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন ময়মনসিংহে র যুবদল নেতা মুরাদ আহমেদ। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তার কাছে পাঠানো একটি ‘ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র’ উন্মোচিত হয়েছে , যেখানে শ্রমিক নিয়োগে লোভ্যাংশের ৪০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার শর্ত রয়েছে ।
যুবদল নেতা মুরাদ আহমেদ জানান, কমিশন বাণিজ্যের কারণে স্থানীয় শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই অস্বচ্ছতার শিকার।
চুক্তির বিবরণ: ৪০% কমিশনেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যুবদল নেতা মুরাদ আহমেদ কর্তৃক প্রকাশিত নথি অনযুায়ী, এই চুক্তি পত্রটি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কাজ করার জন্য সম্পাদিত হয়।
চুক্তির প্রধান পক্ষগুলো হল:
● ১ম পক্ষ (সরবরাহকারী): মেসার্স জহির ট্রেডার্স (যার ঠিকানা দিনাজপুরের পার্বতীপুরে )।
● ২য় পক্ষ (কমিশন গ্রহণকারী): ময়মনসিংহ জেলা পাওয়ার মেইটেনেন্স শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন (শম্ভুগঞ্জ,
ময়মনসিংহ)।
চুক্তি পত্রের মূল শর্ত:
● লোভ্যাংশের ভাগ: প্রতি মাসে শ্রমিকদের বেতন ও সমস্ত ব্যয়বাদ দেওয়ার পর ১ম পক্ষ মেসার্স জহির ট্রেডার্স
ম্যানপাওয়ার সরবরাহের লোভ্যাংশের ৪০% ২য় পক্ষকে প্রদান করবে ।
যুবদল নেতার নেতৃত্বে স্থানীয়দের প্রতিবাদ
মুরাদ আহমেদকে পাঠানো চিঠিতে ভুক্তভোগী মহল জানিয়েছে , তারা ৩১ নং ও ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে
এলাকার পক্ষে লিখিতভাবে চাকরির সুযোগ ও কমিশন বন্ধের দাবি জানানোর পর একটি মহল তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান
নিয়েছে ।
তাদের স্পষ্ট ঘোষণা: “এলাকার সাধারণ মানষেুষের অধি কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
৩১ ও ৩২ নং ওয়ার্ডে কোন ধরনের চাঁদাবাজি চলবে না।”মুরাদ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, তাদের কাছে এই অবৈধ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ডও সংরক্ষিত আছে , যা প্রয়োজনে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে ।
যুবদল নেতা মুরাদ আহমেদের বিপ্লবী বক্তব্য কমিশন বাণিজ্যের এমন নজিরবিহীন দলিল প্রকাশের পর যুবদল নেতা মুরাদ আহমেদ সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা
দিয়েছেন। তিনি দূর্নীতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন:
“যে অধিকারের জন্য লাখো জীবন উৎসর্গ করা হয়েছিল, সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ কমিশন আর দূর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজিতে হাত দেওয়া হচ্ছে । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কি এইসব ঘটনার জন্ম দেয়ার জন্য দেশকে স্বাধীন করেছিলাম? আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, এই চুক্তিপত্রে এলাকাবাসীর স্বার্থরক্ষা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে । এই দূর্নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতেই হবে ।”
এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশের পর শম্ভুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
