কুড়িগ্রাম-৪: পাল্টে যেতে পারে পুরোনো হিসাব; লড়াই হবে ত্রিমুখী

মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর) আসনে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য ও উন্নয়নমুখী প্রার্থী বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এলাকার তরুণ ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই নতুন মনস্তত্ত্ব পাল্টে দিতে পারে এ আসনের ভোটের পুরোনো সব সমীকরণ।

মাঠে আছেন ৭ প্রার্থী

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৭ জন প্রার্থী। চূড়ান্তভাবে প্রতীকপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন:

  • মো. আজিজুর রহমান: ধানের শীষ (বিএনপি)
  • মো. মোস্তাফিজুর রহমান: দাঁড়িপাল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)
  • মো. রুকুনুজ্জামান (শাহীন): বালতি (স্বতন্ত্র)
  • মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান: হাতপাখা (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
  • কে এম ফজলুল মণ্ডল: লাঙ্গল (জাতীয় পার্টি)
  • মো. আব্দুল খালেক: মই (বাসদ)
  • মো. রাজু আহম্মেদ: কাঁচি (স্বতন্ত্র)

ভোটের নতুন সমীকরণ

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনে জাতীয় পার্টির আধিপত্য থাকলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ কয়েক দফায় জয়ী হয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ভোটের মাঠে ভিন্ন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এলাকার ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী প্রায় ৩০ হাজার তরুণ ভোটার এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রৌমারীর তরুণ ভোটার মোস্তাফিজুর রহমান ও নুর ইসলামের মতে, তাঁরা এবার প্রার্থীর দলীয় পরিচয়ের চেয়ে এলাকার উন্নয়ন, নদী ভাঙন রোধ এবং কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের লড়াই মূলত ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিএনপি মনোনীত মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামানের (বালতি) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *