আতাকামা মরুভূমিতে বিরল ফুলের গালিচা
এপি।

চিলির আতাকামা মরুভূমিতে এক বিরল দৃশ্য দেখা দিয়েছেছবি: রয়টার্স।
চিলির আতাকামা মরুভূমিতে এক বিরল দৃশ্য দেখা দিয়েছে। বছরের বেশির ভাগ সময় যেখানে ধুলা উড়তে থাকে, সেই নির্জন মরুপ্রান্তরে এখন ছড়িয়ে আছে রঙিন ফুলের গালিচা। এ যেন মরুর বুকে ক্ষণিকের এক রূপকথা।
ফুলের ফোটার কারণ ও বৈচিত্র্য
বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক এই মরুভূমিতে বছরে গড়ে মাত্র দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু এ বছর শীতকালে পাহাড়ি অঞ্চল ও পাদদেশে নজিরবিহীনভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। সেই বৃষ্টির পানিতেই মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা দুই শতাধিক প্রজাতির বীজ জেগে ওঠে ফুলে ফুলে ভরে গেছে।
- প্রজাতির রং: গোলাপি, বেগুনি, হলুদ আর নীল—নানা রঙের ফুলের এই উৎসবে মরুভূমি যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে।
- উদ্ভিদবিদের মত: চিলির জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের উদ্ভিদবিদ ভিক্টর আরদিলেস বলেন, মাটির নিচে বছরের পর বছর ঘুমিয়ে থাকা এই বীজগুলো পর্যাপ্ত পানি, তাপমাত্রা, আলো আর আর্দ্রতা একসঙ্গে মিললে জেগে ওঠে, অঙ্কুরিত হয় এবং ফুল ফোটে।
সৌন্দর্যের আয়ু ও পর্যটকদের ভিড়
এই ক্ষণস্থায়ী ফুলেল সৌন্দর্যের আয়ু খুব বেশি নয়। নভেম্বর মাস নাগাদ বেশির ভাগ ফুল ঝরে যাবে, কেবল শক্ত প্রাণের কিছু বুনো ফুল জানুয়ারি পর্যন্ত টিকে থাকবে।
এই বিরল প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। পর্যটক মারিৎসা বারেরা বলেন, “ভাবনার চেয়েও বেশি মোহময় এই দৃশ্য।”
এই বিরল প্রকৃতি রক্ষায় চিলি সরকার ২০২৩ সালে ৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ডেজার্ট ব্লুম ন্যাশনাল পার্ক নামে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। গবেষকেরা বলছেন, পৃথিবীর আর কোথাও মরুভূমি এভাবে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে না।
