আকাশচুম্বী দামে সোনা কিনছে কারা?

শুভংকর কর্মকার, ঢাকা।
বৈশ্বিক বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা চলছেই। এর প্রভাবে দেশেও সোনার ভরি দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। শিগগিরই দাম কমার লক্ষণ কম এবং ছয় মাস বা এক বছরের আগের দামে ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—আকাশচুম্বী দামে সোনা কিনছে কারা?
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, দাম বেড়ে যাওয়ায় দুনিয়াজুড়ে সোনার অলংকারের চাহিদা কিছুটা কমলেও, সোনায় লগ্নি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে, মজুত বাড়াতে সোনা কেনা অব্যাহত রেখেছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোনার দাম বাড়ার কারণ
সোনার দামের সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ, দুর্দিনে সোনার দাম বাড়ে।
বিশ্লেষকেরা সোনার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যে কারণগুলো তুলে ধরেছেন:
- ভোক্তার আচরণ: মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থের মূল্যমান হ্রাস পায়। তখন ভোক্তারা এমন পণ্য কিনে রাখতে চান যার ক্ষয় নেই।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা কেনা বাড়িয়েছে।
- ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন: বাণিজ্যযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনাকে বেছে নিচ্ছেন।
গত সোমবার বিশ্ববাজারে একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছায়।
দেশে সোনার ক্রেতা কারা?
বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশেও সোনার দাম দফায় দফায় বাড়ছে। গতকাল ভরিপ্রতি সোনার দাম ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
একাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান:
- ভবিষ্যৎ বিয়ে: বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) পরিচালক আনোয়ার হোসেনের মতে, দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলেও আগামী দু-তিন বছরে যেসব সামর্থ্যবান পরিবারে বিয়ে-শাদি রয়েছে, তারা অলংকার বানাতে আসছে। এ কারণে বেচাবিক্রি বেড়েছে।
- হালকা অলংকার: সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা হালকা ওজনের অলংকারের দিকে ঝুঁকছেন।
