মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
জালিয়াতি ও মামলার বিবরণ
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে অফিশিয়াল আইডি ব্যবহার করে ‘নূর হালিমা’ ও ‘মুজিবুর রহমান’ নামে দুই ব্যক্তির এনআইডি তৈরির নথিপত্র সার্ভারে আপলোড করা হয়। এনআইডি নিবন্ধনে জাল জন্মসনদ ও নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের দায়ের করা এজাহারে ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, ইতিপূর্বে চাকরিচ্যুত তিন আউটসোর্সিং কর্মী, ভুয়া আবেদনকারী ও নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে একাধিক তদন্ত চল অবস্থায় সিসিটিভি ফুটেজ ও সার্ভার লগ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অভিযান ও দুই গ্রেফতার
এনআইডি জালিয়াতির এই মামলায় ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা দুজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নেত্রকোনা সদর উপজেলার ধারিয়া গ্রামের আনিছ মিয়ার ছেলে কাঞ্চন মিয়া (২৯) এবং শেরপুর সদর উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল মিয়া (উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী)।
ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও তদন্ত
মামলার প্রধান আসামিদের একজন রংছাতি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল অভিযোগের বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমাদের ডিজিটাল ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংরক্ষিত নেই। কোনো চক্র হয়তো বাইরে থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া জন্মনিবন্ধন ও নাগরিকত্ব সনদ তৈরি করে থাকতে পারে। এতে আমার বা পরিষদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
পুলিশ ও নির্বাচন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনআইডি নিবন্ধনের জটিল কারিগরি প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং কীভাবে সনদগুলো ব্যবহার করা হলো, তা নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।