সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় প্রায় নয় বছর আগে জমি কিনেও রেজিস্ট্রি দলিল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় ধরে জমির আইনি কাগজপত্র বা দলিল না পাওয়ায় চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির শিকার হয়ে তাঁরা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীর বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানারে জমি বিক্রির পরও দলিল বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রতিকার ও দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। ব্যানারে ভুক্তভোগী হিসেবে মোছা. জহুরা খাতুন ও বর্ষা আক্তারের নাম উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও উদ্বেগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় নয় বছর আগে তাঁরা সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এর রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় আইনি দলিল ও কাগজপত্র না থাকায় তাঁরা নিজেদের মালিকানা নিয়ে সবসময় শঙ্কায় রয়েছেন। বহুবার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাঁরা সাবেক এমপির বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবি জানান। জমি ক্রয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দলিল না পাওয়ায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক এমপি গোলাম রব্বানীর বক্তব্য
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী জানান, জমি ক্রেতাদের দখলেই রয়েছে, কেবল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া বাকি আছে। তবে তাঁর ভাতিজার সঙ্গে পারিবারিক সম্পত্তি ও বাটোয়ারা সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “জমিটা প্রথমে আমি বিক্রি করেছি। তবে বাটোয়ারা অনুযায়ী এই জমির মালিক আমার ভাতিজা। এদিকে আমি আমার জমি ভাতিজাকে দেওয়ার পরও কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।”
জমির দীর্ঘমেয়াদি এই জটিলতা ও হয়রানি নিরسনে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনি সুরাহা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।